Breaking News

দিন দিন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশের তরুণরা,

বাংলাদেশের তরুণরা দিন দিন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে। বর্তমান তরুণদের জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার হার ২০১৭ সালের চেয়ে ১০ শতাংশ বেড়েছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকের তারুণ্য জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ছিলেন মুসলমান। আর ৪ শতাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী। উভয় ধর্মাবলম্বীদের ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা ধর্মচর্চা করেন।

মুসলমান তরুণদের বেশির ভাগ ধর্মচর্চা করলেও তাঁরা যে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তা নয়। কেউ দিনে এক-দুই ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, কেউ জুমার নামাজ আদায় করেন বা রমজান মাসে রোজা রাখেন। মুসলমান তরুণদের ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ শহরের চেয়ে গ্রামের তরুণেরা এবং ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা বেশি পড়েন।

দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, এমন তরুণ ২০১৭ সালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৭ সালে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ তরুণ বলেছিলেন, তাঁরা দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। এবারের জরিপে অংশগ্রহণকারীদের এক চতুর্থাংশ বলেছেন, তাঁরা দিনে তিন বা চার ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। ১১ দশমিক ২ শতাংশ এক বা দুই ওয়াক্ত পড়েন। প্রতিদিন নামাজ পড়েন না কিন্তু শুক্রবার জুমার নামাজ পড়েন, এমন তরুণের সংখ্যা ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। আর ৪ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন, দৈনন্দিন নামাজ আদায় না করলেও তাঁরা রমজান মাসে রোজা রাখেন।

উল্লেখ্য, এবারের জরিপে বেশির ভাগ তরুণই মনে করেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ উদার। তবে ১৭ শতাংশ মনে করেন, বাংলাদেশ রক্ষণশীল। ৯ দশমিক ৩ শতাংশ তরুণ বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁরা জানেন না। ২০১৭ সালের জরিপে অংশ নেওয়া তরুণদের ২ দশমিক ৫ শতাংশ বলেছিলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের দেশ রক্ষণশীল।

পবিত্র কোরআনের সূরা সাবার ৩৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘বল, আমার প্রতিপালক তো তার বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা রিজিক বর্ধিত করেন এবং যার প্রতি ইচ্ছা সীমিত করেন। তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার প্রতিদান দিবেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।’ সূরা সাবার উপরোক্ত আয়াতে যে বিষয়টির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে সেটি হলো- আল্লাহ ইচ্ছা করলেই যে কোনো ব্যক্তির রিজিক বাড়িয়ে দিতে পারেন, তেমনি তিনি তা কমিয়ে দিতেও পারেন।

আল্লাহ যেহেতু মানুষকে সম্পদ দেন, সেহেতু মানুষ যদি আল্লাহর নির্দেশিত পথে সে সম্পদ ব্যয় করে তবে তিনি বান্দাকে তার বিনিময় দান করার ব্যাপারেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পবিত্র কোরআনের সূরা আশ-শুরার ২৭ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করা হয়েছে, ‘আল্লাহ তাঁর সব বান্দাকে জীবনোপকরণে প্রাচুর্য দিলে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই বিপ’র্যয় সৃষ্টি করত, কিন্তু তিনি তার ইচ্ছামতো পরিমাণেই নাজিল করিয়া থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সম্যক জানেন ও দেখেন।’

উপরোক্ত আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে,- আল্লাহ ইচ্ছা করলেই যে কাউকে পর্যাপ্ত রিজিক দিতে পারেন। সব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত রিজিকের ব্যবস্থা করতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষেত্রে এক মানুষের সঙ্গে অপর মানুষের নির্ভরতার সম্পর্ক নষ্ট হতো। মানুষের মধ্যে একে অপরকে তোয়াক্কা না করার মনোভাব দেখা দিত। পবিত্র কোরআনের উপরোক্ত আয়াতের ভিত্তিতে বলা যায়, পৃথিবীর সব মানুষকে পর্যাপ্ত রিজিক ও নেয়ামত দেওয়া হলে ধন-সম্পদ প্রাচুর্যের কারণে কেউ কারও মুখাপেক্ষী থাকত না।

লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, মানুষের ধন যত বাড়ে লোভ-লালসা তত বাড়ে। ফলে সবাই পর্যাপ্ত ধন-সম্পদের মালিক হলে পার’স্পরিক রেষা’রেষি ও প্রতিদ্ব’ন্দ্বিতার মনোভাব বেড়ে যেত। আল্লাহর প্রদত্ত ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থার কারণে ধনীরা যাদের সম্পদ নেই তাদের কাছেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুখাপেক্ষী থাকে। আবার যাদের সম্পদ নেই ধনীদের সঙ্গে তাদেরও মুখাপেক্ষিতা গড়ে উঠেছে।

About Admin

Check Also

ভাস্কর্য রক্ষায় আইন হলে মহানবী (সা.) এর সম্মান রক্ষার্থে আইন নয় কেন?: ব্রিটিশ এমপি

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *